মহাকাশের প্রথম বিলাসবহুল হোটেল


পৃথিবীতে একদিনে অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টায় একবার ই সূর্যোদয় দেখা সম্ভব কিন্তু আপনি চাইলে এক দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় দেখতে পারবেন!
শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ঘটনাটি একেবারেই সত্যি।
তবে এই সৌভাগ্য লাভ করতে হলে আপনাকে পৃথিবী ছেড়ে পাড়ি দিতে হবে মহাকাশে।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর নৈসর্গিক দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগটি তৈরি করতে চলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘অরিয়ন স্প্যান’।
তবে এর জন্য আপনাকে সামান্য পয়সা খরচ করতে হবে।



১২ দিনের জন্য আপনাকে গুনতে হবে সাড়ে ৯ মিলিয়ন ডলার প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
পৃথিবীর নিকটবর্তী মহাকাশে বিলাসবহুল হোটেল উেক্ষপণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, ‘অরোরা স্টেশন’ নামের হোটেলটি পর্যটকদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেবে।
২০২২ সালে আসছে 'অরোরা স্টেশন' নামের এই বিলাসবহুল হোটেল।
এই হোটেলকে বলা হচ্ছে বিশ্বের প্রথম বিলাসবহুল মহাকাশ হোটেল।
ওরিয়ন স্প্যানের প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক বাংগার বলেন, সবার জন্য মহাকাশ ভ্রমণের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। মহাকাশে হোটেল চালুর পরপরই কম খরচে সেখানে সবাইকে থাকার সুযোগ দেওয়া হবে। মহাকাশে এই ১২দিন থাকতে খরচ পড়বে প্রায় ৯,৫ মিলিয়ন ডলার।
জন প্রতি এই টাকা দিলেই আপনাকে মহাকাশে নিয়ে যাবে এই সংস্থা। মহাকাশে যেতে বুকিং শুরু হয়েছে ৮০ হাজার ডলার দিয়ে। বার্গনার বলেন, মহাকাশ স্টেশনে যেতে নভোচারীদের ২৪ মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন পড়ে।
কিন্তু তাঁরা একে তিন মাসে নামিয়ে এনেছেন।
১২ দিনের এ রোমাঞ্চকর যাত্রা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ২০০ মাইল ওপরে লো আর্থ অরবিটে (এলইপি) উড়বেন। সেখান থেকে পৃথিবীর চমৎকার দৃশ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
এ হোটেল পৃথিবীকে প্রতি ৩০ মিনিটে প্রদক্ষিণ করবে।
অর্থাৎ হোটেলের অতিথিরা প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১৬ বার সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন।
হোটেলে বসে অতিথিরা খাবার উৎপাদনের মতো গবেষণায় অংশ নিতে পারবেন। এসব খাবার তাঁরা উপহার হিসেবে পৃথিবীতে সঙ্গে নিতে পারবেন। উচ্চগতির ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সিস্টেম থাকবে সেখানে। সরাসরি পৃথিবীতে লাইভ ভিডিও চ্যাট করা যাবে।
এ ছাড়া পৃথিবীতে ফেরার পর তাঁদের বিশেষ সম্মান জানানো হবে।
ভরশূন্য অনুভূতির মজা নেওয়া ছাড়াও অতিথিরা মুক্তভাবে হোটেলের ভেতর ভেসে থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মেরু প্রভার দৃশ্য দেখতে পাবেন।
উেক্ষপণের পর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে দুইশ মাইল উপরে অবস্থান করবে অরোরা স্টেশন।
হোটেলে এক সঙ্গে ৬ জন থাকতে পারবেন যার মধ্যে অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য থাকবেন দুই জন ক্রু।
অর্থাৎ সর্বোচ্চ চার জন অতিথি একসঙ্গে মহাকাশ ভ্রমণের জন্য বিলাসবহুল এই হোটেলে অবস্থান করতে পারবে।
প্রতিষ্ঠানের কর্তা ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, ২০২২ সালেই হোটেলটি মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হবেন তারা। ইতোমধ্যেই অরিয়ন স্প্যানের ওয়েবসাইটে ভ্রমণইচ্ছুকদের জন্য হোটেল বুকিং দেওয়ার সুযোগও চালু হয়ে গেছে।

সাড়ে ৯ মিলিয়ন ডলারের খরচের বাজেট শুনে যাদের কপালে ভাঁজ পড়েছে তাদের জানা প্রয়োজন ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত খরচে যে সাতজন মহাকাশ ভ্রমণ করেছেন তাদের প্রত্যেকের খরচ হয়েছিল ২০ থেকে ৪০ মিলিয়ন ডলারের মতো।
অরিয়ন স্প্যানের প্রধান নির্বাহী ফ্রাঙ্ক বাংগার জানান, তারা মহাকাশ ভ্রমণকে যথাসম্ভব সহজসাধ্য করতে চান।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোগ সফল হলে মহাকাশে বিলাসবহুল হোটেল উেক্ষপণের ক্ষেত্রে এটি-ই হবে প্রথম ঘটনা।
মজার বিষয় হলো, মহাকাশ হোটেলে থাকার জন্য অতিথিদের বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
১২ দিনের ট্যুরে যে অতিথিরা নীল গ্রহের অসাধারণ সব দৃশ্য উপভোগ করবেন সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না।
এক দিনে ১৬ বার সূর্যোদয় দেখার রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলা হয়েছে, হোটেলটি প্রতি ৯০ মিনিটে একবার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবে।
এর ফলে ২৪ ঘণ্টায় ১৬ বার সূর্যোদয় দেখার দারুণ এক অভিজ্ঞতা লাভ করবেন অতিথিরা।


মহাকাশের প্রথম বিলাসবহুল হোটেলটি আপনাদের কেমন লাগলো এবং প্রতিবেদন টি সম্পর্কে আপনাদের কোন মতামত থাকলে কমেন্ট বক্স এ আমাদের জানাতে পারেন

ধন্যবাদ

Comments